বন্ধুরা বলে-
ধৈর্য্য ধর, তুই চাইলেই সব হবে;
ইচ্ছেই হলো মানুষের ভাগ্য খাতা।
আর আমি দেখি-
ধৈর্য্য সিজদায় নত হয়ে থাকে;
একটা ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর জায়নামাজে।
আমার প্রতিদিন শুরু হয়-
বিলম্বিত আযানের মতো।
যেখানে ঘড়ি থেমে থাকে তবু ওয়াক্ত গড়ায়,
অতঃপর বক্র কাতারে ইকামত শুরু।
.
মা বলেন- “দোয়া করি ভালো কিছু হবে ইনশাল্লাহ”
আমি জানি-
দোয়া এখন রেমিটেন্স গুনে, ডলার রেট দেখে।
আমি জানি ইনশাআল্লাহ মানে-
“ঘরে চাল নেই তবু মা হাঁসেন”
এই দৃশ্যমান বরকত।
প্রেমিকা একদিন বলেছিল-
“তুমিতো কবিতা লেখো,
কিন্তু আমার শাড়ির রঙ বোঝ না!”
প্রেমিকার ঠোঁট থেকে অনর্গল কেরাত-
“তুমি যথেষ্ট ভালোবাসোনি, তুমি যথেষ্ট উপার্জন করোনি।”
আমি তখন বুঝেছিলাম,
ভালোবাসা এক ধরণের মুদ্রাস্ফীতি-
শুধু হৃদয়ের ঈমানে কেনা যায় না।
.
আমি একদিন রাষ্ট্রের অফিসে গিয়েছিলাম,
যেদিন রাষ্ট্র তার রক্তাক্ত কোট পুঁতে রেখেছিলো,
কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে ভরা জনসভায়।
বলেছিলাম, “আমার পিঠে গর্ত হয়ে গেছে;
বুকে কেবল ফাতেহা শরীফের শেষ আমিন"
যেটা উচ্চারিত হয় না, কিন্তু প্রতিধ্বনি করে ঘরের শূন্য থালায়।
ওরা হেসে বলেছিল-
“তুমি তো কবি, কষ্টের কবিতা লেখো, সুখের উপযুক্ত নও।”
তখন বুঝলাম-
কবিতা দিয়ে পেট চলে না,
তবে কবিতা দিয়েই ছেঁড়া আত্মা সেলাই করা যায়।
.
আমি এখন,
নিজের ভেতর হিজরত করে;
কাফনের সাদা পৃষ্ঠা ছিঁড়ে বানাই কবিতার ড্রাফট।
আমি প্রতিদিন নিজেকে আবৃত করি,
তাক্বওয়ার চাদর মুড়িয়ে।
কারণ আত্মসম্মান এখন;
একটা ভুলে যাওয়া গলির ময়লা কাগজ,
যেটাতে কেউ মুড়ে ফেলে রাখে মরা পাখি।
.
২৮/০৫/২০২৫
Photo collected from Unsplash

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন