বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫

অপদার্থের আত্ম-বয়ান



বন্ধুরা বলে-

ধৈর্য্য ধর, তুই চাইলেই সব হবে;

ইচ্ছেই হলো মানুষের ভাগ্য খাতা।

আর আমি দেখি-

ধৈর্য্য সিজদায় নত হয়ে থাকে;

একটা ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর জায়নামাজে।

আমার প্রতিদিন শুরু হয়-

বিলম্বিত আযানের মতো।

যেখানে ঘড়ি থেমে থাকে তবু ওয়াক্ত গড়ায়,

অতঃপর বক্র কাতারে ইকামত শুরু।

.

মা বলেন- “দোয়া করি ভালো কিছু হবে ইনশাল্লাহ”

আমি জানি-

দোয়া এখন রেমিটেন্স গুনে, ডলার রেট দেখে।

আমি জানি ইনশাআল্লাহ মানে-

“ঘরে চাল নেই তবু মা হাঁসেন”

এই দৃশ্যমান বরকত।

প্রেমিকা একদিন বলেছিল-

“তুমিতো কবিতা লেখো,

কিন্তু আমার শাড়ির রঙ বোঝ না!”

প্রেমিকার ঠোঁট থেকে অনর্গল কেরাত-

“তুমি যথেষ্ট ভালোবাসোনি, তুমি যথেষ্ট উপার্জন করোনি।”

আমি তখন বুঝেছিলাম,

ভালোবাসা এক ধরণের মুদ্রাস্ফীতি-

শুধু হৃদয়ের ঈমানে কেনা যায় না।

.

আমি একদিন রাষ্ট্রের অফিসে গিয়েছিলাম,

যেদিন রাষ্ট্র তার রক্তাক্ত কোট পুঁতে রেখেছিলো,

কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে ভরা জনসভায়।

বলেছিলাম, “আমার পিঠে গর্ত হয়ে গেছে;

বুকে কেবল ফাতেহা শরীফের শেষ আমিন"

যেটা উচ্চারিত হয় না, কিন্তু প্রতিধ্বনি করে ঘরের শূন্য থালায়।

ওরা হেসে বলেছিল-

“তুমি তো কবি, কষ্টের কবিতা লেখো, সুখের উপযুক্ত নও।”

তখন বুঝলাম-

কবিতা দিয়ে পেট চলে না,

তবে কবিতা দিয়েই ছেঁড়া আত্মা সেলাই করা যায়।

.

আমি এখন,

নিজের ভেতর হিজরত করে;

কাফনের সাদা পৃষ্ঠা ছিঁড়ে বানাই কবিতার ড্রাফট।

আমি প্রতিদিন নিজেকে আবৃত করি,

তাক্বওয়ার চাদর মুড়িয়ে।

কারণ আত্মসম্মান এখন;

একটা ভুলে যাওয়া গলির ময়লা কাগজ,

যেটাতে কেউ মুড়ে ফেলে রাখে মরা পাখি।

.

২৮/০৫/২০২৫

Photo collected from Unsplash

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন